জৈন দর্শনে “যুক্তির”ভূমিকাঃ একটি মূল্যায়ন
DOI:
#10.25215/9198924044.12Abstract
দর্শনের আলোচনার মূল মাধ্যম হল যুক্তি। পাশ্চাত্য ও ভারতীয় – উভয় দর্শনেই পদ্ধতি গত পার্থক্য থাকলেও ‘যুক্তি’ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভারতীয় দর্শনেও বিভিন্ন দর্শন সম্প্রদায়ের দার্শনিক তত্ত্বের আলোচনা তার নির্দিষ্ট যৌক্তিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়। ভারতীয় নাস্তিক দর্শন সম্প্রদায়ের মধ্যে অন্যতম সম্প্রদায় হিসাবে জৈন দর্শন ও এর ব্যতিক্রম নয়। জৈন দর্শনে তাঁদের আধিবিদ্যক অনেকান্তবাদের যৌক্তিক ভিত্তি হল তাদের জ্ঞানতত্ত্ব যা নির্মান হয়েছে সাতটি বচন বা অবধারন দিয়ে। এই অবধারন বা বচন কে জৈন পরিভাষায় “নয়” বলা হয়েছে। জৈন মতে, কোন বস্তু সম্পর্কে কোন যুক্তি বা অবধারন প্রকাশ করার সময় তাকে শর্তহীন না করে শর্তযুক্ত করা উচিত। এই শর্ত হল “স্যাৎ” – যার অর্থ হল ‘সম্ভবত’। জৈন মতে, সসীম ও অপূর্ণ মানুষ কোন বস্তু সম্পর্কে যে যুক্তির অবতারনা করে সে যুক্তি বা অবধারন বস্তুর কোন একটি দিক হতে সত্য-অর্ধসত্য-শর্তাধীন। এভাবে প্রতিটি অর্ধসত্য ‘নয়’ কে ‘স্যাৎ’ শব্দ যুক্ত করে সাতটি নয় বা বচনে প্রকাশ করা হয় যা জৈন দর্শনে স্যাদবাদ ও সপ্তভঙ্গী মতবাদ নামে পরিচিত। আলোচ্য প্রবন্ধে যৌক্তিক কাঠামোর আলোকে জৈনদের “স্যাদবাদ ও সপ্তভঙ্গী” মতবাদের আলোচনা করা হবে। সেইসঙ্গে যে যুক্তির সাহায্যে জৈনরা বস্তুর সত্তা ও অসত্তা, একত্ব ও বহুত্ব, ভেদ ও অভেদ, সামান্য ও বিশেষ প্রভৃতি বিরুদ্ধ ধর্মের সমন্বয় করতে চেয়েছেন তা যে আলো ও অন্ধকারের মতো একই অধিকরনে থাকতে পারে না-এ প্রসঙ্গে বৌদ্ধ ও বেদান্ত মতের উল্লেখ পূর্বক যৌক্তিক যাথার্থতা ও গুরুত্বের দিকটি সমালোচনামূলক পুনর্মূল্যায়নের প্রয়াস থাকবে।Published
2024-05-09
How to Cite
ডঃ ভরত মালাকার. (2024). জৈন দর্শনে “যুক্তির”ভূমিকাঃ একটি মূল্যায়ন. Redshine Archive, 13(3). https://doi.org/10.25215/9198924044.12
Issue
Section
Articles
